বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে প্রায় ৩ শতাংশ

ইরানের বিরুদ্ধে চাপ আরো বাড়িয়ে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের দিকে একটি নৌবহর পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে দেশটি।

ইরানের বিরুদ্ধে চাপ আরো বাড়িয়ে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের দিকে একটি নৌবহর পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে দেশটি। ভূরাজনৈতিক এমন অস্থিতিশীলতার প্রভাবে গত সপ্তাহের লেনদেনের শেষদিনে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম এক সপ্তাহেরও বেশি সময়ের সর্বোচ্চে পৌঁছেছে। এ সময় জ্বালানি তেলের মূল্যসূচকগুলোর দাম বেড়েছে প্রায় ৩ শতাংশের কাছাকাছি। খবর রয়টার্স।

অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্টের দাম শুক্রবার ব্যারেলে ১ ডলার ৮২ সেন্ট বা ২ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে। প্রতি ব্যারেলের মূল্য স্থির হয়েছে ৬৫ ডলার ৮৮ সেন্টে, যা ১৪ জানুয়ারির পর সর্বোচ্চ। একই দিনে মার্কিন বাজার আদর্শ ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) মূল্য পৌঁছেছে ব্যারেলপ্রতি ৬১ ডলার ৭ সেন্টে। এটি আগের দিনের তুলনায় ১ ডলার ৭১ সেন্ট বা ২ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি এবং এক সপ্তাহের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ। এছাড়া গত সপ্তাহজুড়ে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের উভয় মূল্যসূচকের দাম বেড়েছে ২ দশমিক ৫ শতাংশের বেশি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে আরো কঠোর অবস্থান নেয়ার ইঙ্গিত দিয়ে তেহরানকে বিক্ষোভকারীদের হত্যার বিষয়ে সতর্ক করেন। এমনকি দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি পুনরায় শুরু না করার হুঁশিয়ারি দেন। একই সঙ্গে তিনি জানান, ইরানের দিকে একটি শক্তিশালী নৌবহর পাঠানো হচ্ছে। এসব ঘোষণায় মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি দেখা দিয়েছে।

মার্কিন এক কর্মকর্তা জানান, বিমানবাহী রণতরী ও গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ারসহ একাধিক যুদ্ধজাহাজ কয়েক দিনের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছবে।

যুক্তরাষ্ট্র শুক্রবার ইরানের জ্বালানি তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য পরিবহনের সঙ্গে যুক্ত নয়টি জাহাজ এবং সংশ্লিষ্ট আটটি প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে বলে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এ পদক্ষেপ ইরানের রফতানি সক্ষমতার ওপর আরো চাপ তৈরি করবে।

ওপেকের দেয়া তথ্যমতে, অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলনে চতুর্থ শীর্ষে রয়েছে ইরান। দেশটি দৈনিক প্রায় ৩২ লাখ ব্যারেল জ্বালানি তেল উত্তোলন করে। একই সঙ্গে দেশটি বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম জ্বালানি তেল ভোক্তা চীনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহকারী।

অন্যদিকে কাজাখস্তানের জ্বালানি তেল উত্তোলন পরিস্থিতিও বাজারে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। শেভরন জানিয়েছে, দেশটির তেনগিজ তেল ক্ষেত্রে সোমবার অগ্নিকাণ্ডের পর উত্তোলন বন্ধ থাকায় এখনো কার্যক্রম স্বাভাবিক হয়নি।

ঘটনাটি কাজাখস্তানের জ্বালানি তেল শিল্পের বিদ্যমান সংকটকে আরো বাড়িয়ে তুলেছে। কৃষ্ণসাগর হয়ে জ্বালানি তেল রফতানির প্রধান রুটে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় ক্ষতি হওয়ায় দেশটি আগেই রফতানি জটিলতায় পড়েছিল।

জেপি মরগান শুক্রবার এক নোটে জানায়, কাজাখস্তানের মোট উত্তোলনের প্রায় অর্ধেক জোগান দেয়া তেনগিজ তেল ক্ষেত্রটি চলতি মাসের বাকি সময়জুড়ে বন্ধ থাকতে পারে। ফলে জানুয়ারিতে দেশটির অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন দৈনিক গড়ে ১০-১১ লাখ ব্যারেলে নেমে আসতে পারে। যেখানে স্বাভাবিক সময়ে উত্তোলন হয় প্রায় ১৮ লাখ ব্যারেল।

আরও